পৃষ্ঠাসমূহ

বিশ্বাস করা না করা আপনার ব্যাপার

| বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০১৪ | |
ঘটনাটা ২ বছর আগে আমার মামাত বোন মনি আপুর সাথে ঘটেছে| নিজের ভাষায় লিখছি| আমি তখন মেডিকেল ৩য় বর্ষ পড়ি| প্রফের ছুটিতে নানা বাড়ি বেড়াতে গেলাম| সেখানে শুধু আমার নানা, নানী আর একটা কাজের ছেলে থাকে| ২ দিন পর বিকালে হাটাতে বের হয়ে দেখলাম কিছু দূরে অনেক বড় একটা ক্ষেত এর ভিতর এক পাশে একটা ঘন বাশ ঝাড় তার ভিতর একটা পুরানো বাড়ি| সামনে দিয়ে যেতেই এক মধ্য বয়সি মহিলা আমাকে ডেকে জানতে চাইল কোন বাড়ির মেয়ে কি করি| সব শুনে খুশি হয়ে আমাকে ঘরে নিয়ে গেলে আর বললতার ছেলেও মেডিকেলে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বেড়াতে এসেছে|একটু পরে একটা ছেলে আসল| দেখতে লম্বা শ্যামলা সুন্দর একটা ছেলে| বেশ কিছুক্ষন কথা হল| এই বাড়িতে কোন নেটওর্য়াক নেই মোবাইল এ দেখি ৭ টা বাজে| আমি বাড়ি যেতে চাইলাম| ছেলেটা আমার সঙ্গে এলো | আমি ছেলেটা কে ( কৌশিক) ভিতরে আশতে বললাম কিন্তু আসল না রাত হয়ে গেছেবলে চলে গেলো| আসার পর মা ১০০ টা প্রশ্ন করে| আমরা ৪ বছর পর গ্রামে গিয়েছিলাম| মা কৌশিকে জানত| মা বলল ছেলেটা খুব মেধাবি| পর দিন দুপুরে ঘুম থাকে উঠে পুকুর পাড়ে বসে আছি হঠাত্‍ পাশে তাকাতেই দেখি কৌশিক| একটু ভয় পেলাম|
আমি: কখন এলে? একেবারে ভয় পইয়ে দিলে যে
কৌশিক: এইতো এখনি এলাম এতো অল্প তে ভয় পাও? হা হা একটু লজ্জা পেলাম। অনেক কথা হল ।আনন্দে কেটে গেলো আরো ১১ দিন। নানী আমাকে ডেকে জিগেসকরল কৌশিক ছোট মানুষ ওর সাথে এতো কি গল্প করি? আমিতো অবাক কৌশিক ছোট হতে যাবে কেন? ওতো আমার চেয়েও ২বছরের বড়। নানী বলল পাশের বাসার রত্না খালা ছেলে কৌশিক না? আমি নানাকে সব বললাম কোন বাড়ির কৌশিক। নানী সব শুনে ভয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এরপর আমি যা শুনলাম তা আর কখনো শুনতে চাই না। নানী বলল কৌশিক ৩ বছর আগে আত্মহত্যা করে! তার প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে আর তার মা একমাএ ছেলেকে হাড়িয়ে এক মাস পর তার মৃত দেহটা প্রতিবেশিরা পায়। নানী মাকে বলল কালই আমরা যেন ঢাকাতে চলে যাই। তাছাড়া কৌশিক আমার বন্ধু আরসে কিনা একজন মৃত মানুষ এও কি বিশ্বাস হয়? জানিনা কখন এসব চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম ভাঙল কেউআমাকে ডাকছে গলাটা পরিচিত। একি কৌশিক এতো রাতে আমার ঘরে এলে কিভাবে। ভয়ে আমি নীল হয়ে গেছি ঠান্ডা একটা স্রোত শিরদাড় দিয়ে নেমে গেলো। ঝি ঝি পোকার ডাক যেন আরো ভীত করে তুলছে। কৌশিক পাশে বসতেই আমার আর চেতনা নেই. যখন চেতনা হল কৌশিক পাশে বসে করুন ভাবে কাদছে। দেখে আমি সব ভুলে গেলাম ও আমাকে সব বলল নানী যা যা বলেছিল। ও বলল ও এখন একটা আত্মা কিন্তু আমাকে পেয়ে ওর একাকিত্ব দূর হয়েছে আমি যেনভয় না পাই আর বন্ধত্ব নষ্ট না করি। আমি যেন আমা নেই আসলে আমার ওকে ভালো লাগত আমি কথা দিলাম আমি ওর বন্ধুথাকব। আমি ঢাকায় ফিরে গেলামপড়াতে যোগ দিলাম। ঘটে যাওয়াঘটনাটা কৌশিক কাও কে জানাতেবারন। যদিও আমার দুই বোন আরএক বান্ধবীকে জানিয়েছি। কৌশিক আমার মাঝেই। ও আমার সাথে থাকে। এভাবে ৭ মাস ভালোই কাটে এক দিন বাবা আমার জন্য ছেলে দেখে আমার পরিবার আমাকে জোর করে আংটি পরায় । এর মধ্যে আমি ও কৌশিক কে ভালোবেসে ফেলেছি। এরপর দিন শুনি ঐ ছেলেটা আত্মহত্যা করেছে । পরে কৌশিক আমাকে বলল এটা ও করেছে ও আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না আর আমি ও পারব না।আমাকে ডাক্তার দেখনো হচ্ছে আমি জানি আমি সুস্থ আর কৌশিক একটা অন্ধকার ছায়াআর আমি ওর অন্ধকার জগতের রানী........

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন