ঘটনাটা আজ থেকে ৩০ বছর আগের। মামা তখন মাদ্রাসায় পড়তেন। ১২ বছর বয়সে মামাকে নানা অনেকটা জোর করেই ভর্তি করান। একদিন মামা মাগরিবের নামাজ পড়ে বাইরে বের হন। মসজিদ থেকে মিনিট দশেক দূরত্বে একটা শশ্মানঘাট আছে সেই শশ্মানঘাট ক্রস করার সময় মামা খেয়াল করেন কিছু একটা উনার পেছনে পেছনে আসছে ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে পেছনে ফিরে তাকান। তাকিয়ে দেখেন একটা কুকুর তার পেছেন পেছনে আসছে। মামা ৭ ৫ না ভেবে রাস্তায় একটা গাছের ডাল পরেছিল সেটা দিয়ে ঢিল ছুরে মারে কুকুরের দিকে। কুকুরটা অনেকটা কান্নার সুরে গুঙ্গাতে গুঙ্গাতে চলে গেল। তারপর মামা মাদ্রাসায় ফিরে যান। রাত তখন আনুমানিক ২ টা। পস্রাব করার জন্য টয়লেটে যান। টয়লেটে কারো উপস্থিতি টের পান। টয়লেটে চারপাশ তাকিয়ে অবশেষে ভ্যান্টিলেটেরর দিকে নজর যায় উনার। উনি দেখেন ভ্যান্টিলেটেরের মধ্য দিয়ে একটি বিভৎস চেহারা কাটা মাথা। চুল গুলো টয়লেটের ফ্লোর পযর্ন্ত এসে ঠেকেছে। চোখ গুলো লাল মনে হচ্ছে এক্ষুণি রক্ত বের হবে। মাথাটা উনার দিকে তাকিয়ে বলছে তুই কাজটা ভাল করিস নি। তুকে ভোগ করতে হবে। মামা এটা দেকে সহ্য করেত না পেরে চিৎকার শুরু করে দেয়। চিৎকার শুনে মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্র এবং হুজুররা ছুটে আসে। মামা এতটায় ভয় পায় যে উনার মুখ দিয়ে কথাই বের হচ্ছিলনা। অনেক্ষন পর মামা স্বাভাবিক হলে হুজুর রা জিজ্ঞেস করেন কি হয়েছিল। মামা তাদের সব খলে বলে শশ্মানঘাট থেকে শুরু করে টয়লেট পযর্ন্ত যা যা হয়েছে। হুজুর সব শুনে মামার শরীরটা বেধে দিলে তাবিজ দিয়ে। তারপর মামা মাদ্রাসা পড়া আধা রেখেই চলে আসেন বাড়িতে। আসল ঘটনা মামার বিয়ের আগে। মেয়ে দেখা হয়ে গেছে। নানা বিশেষ কাজে বাইরে গেছেন আসতে ১৫ দিন লাগবে তাই মামার বিয়ে ১৫ দিন পরে হবে। বাড়িতে আনন্দমুখর পরিবেশ। মামা ঢাকা থেকে আসছিলেন
বিয়ের বাজার সদায় করে। আসতে আসতে অনেক রাত হয়ে য়ায়। রাস্তা দিয়ে আসার সময় উনি দেখতে পান সাদা কাপড় পড়া একজন মহিলা উনার দিকেই আসছে। কিছুটা সামনে আসতেই মামা দেখতে পান একটা বিকৃত চেহারার মহিলা উনার দিকে চেয়ে হাসছে। মামা কিছুটা ভয় পেয়ে নিজেকে সামলে ঐ মহিলাকে ক্রস করে যাওয়ার সময় মহিলা পেছন থেকে বলে ওঠল কিরে ভুলে গেলি আমায়। জোরে জোরে হাসার আওয়াজ শুনতে পান মামা। ভয়ে হাত পা নাড়াতে পারছিলেন না মামা। অনেক চেষ্টা করেও গলা দিয়ে আওয়াজ বের হলনা। মনে হচ্ছে কেউ যেন উনার গলা টিপে ধরে রেখেছে। আর নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারেন নি। অবশেষে মামা অজ্ঞান হয়ে যায়। সেইদিন থেকে মামা নিখোজ হন। প্রায় একমাস মামার কোন খোজ ছিলনা। বাড়ির সবাই প্রায় পাগল হবার উপক্রম। এভাবে একটা জ্বলজ্যান্ত মানুষ গায়েব হয় কি করে। নানা বিষয় টা কিছুটা আঁচ করতে পারেন। তাই উনাদের এলাকার বড় হুজুরকে বিষয়টা জানান। বড় হুজুর সব শুনে শুধু একটাই কথা বললেন এসে যাবে তোমার ছেলে এসে যাবে। ৩দিনপর রাতে ঘরের দরজাতে অনেক জোরে জোরে কারো নক করার আওয়াজে বাড়ির সবার ঘুম ভেঙ্গে যায় দরজা খুলে দেখেন মামা।
মামা কাদতে কাদতে দরজার সামনেই অজ্ঞান হয়ে যান। অনেক্ষণপর মামার জ্ঞান ফেরে। তারপর মামা সব কথা খুলে বলেন তার সাথে কি হয়েছিল। নানা আগেই জানতেন ব্যাপার টা তাই সবাইকে এ নিয়ে আর প্রশ্ন করতে মানা করলেন। কিছুদিনের মধ্যে মামা স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেন। মামার বিয়ের জন্য সবাই মেয়ে দেখতে শুরু করেন আবার। কিছু দিনের মধ্যে মেয়ে পছন্দও হয়ে যায়।
কিন্তু ভাগ্যে যে এমন লেখা থাকবে হয়ত কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। গায়ে হলুদের দিন সকাল বেলা অনেক ডাকাডাকির পরও মামার কোনসাড়া না পাওয়া নানি মামাকে ডাকতে মামার
ঘরে গেলেন।দরজা ভেতর দিক থেকে বন্ধ ছিল। তাই নানাসহ বাড়ির অন্য সবাই মিলে দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভেতর ঢুকে। ঘরের ভেতর তাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে তারা হয়ত ভাবতেই পারেনি। সবাই ঘরের ভেতর ঢুকতেই মামা বিছানার দিকে তাকান।
।
।
সবাই দেখেন বিছানায় মামার মৃত শরীর। জিহবা মুখ থেকে বের হয়ে আছে। চোখ গুলো উপরানো । পেটে মধ্যে ছোট একটা গর্ত।
।
। এমন বিভৎস বডি দেখে সবাই ভয়ে আতংকিত হয়ে পরে। বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। পুলিশ আসেন। তদন্তও হয় কিন্তু আজ পর্যন্ত খোলাশা হয়নি সেদিন রাতে মামার সাথে কি হয়েছিল। নানি আজও কেদে কেদে বুক ভাসান মামার জন্য। আমি নিজেও দেখেছি নানিকে কাদতে। মামার অস্বাভাবিক মৃত্যুরপর নানা একদিন নাকি স্বপ্নে দেখেন এক বৃদ্ধ মহিলা সাদা কাপড় পরিহিত অনেকটা বিভৎস
চেহারার নানাকে বলছে তুর ছেলে আমাকে মেরেছিল তাই তুর ছেলেকে মেরে দিলাম। শিক্ষা হয়েছে।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন