আমার এই ঘটনা পড়ার পর মনে হতে পারে যে আমার মানসিক সমস্যা আছে কিন্তু আমি পুরপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক মানসিকতা সম্পন্ন সুস্থ একজন মানুষ। ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ ই জুনে। আমি ১১ তারিখে জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় বেরাতে যাই। হটাত আমার ১৮ তারিখ ঢাকা যাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। আমি ফোন করে শেরপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার দুটি বাস টিকেটের বাবস্থা করি। আমার পরিচিত এক বাস মালিক আছেন শেরপুরে। বাস ছাড়বে ১৮ তারিখ সকাল ৬ টা ৪৫ মিনিটে। আমি ১৭ তারিখ সন্ধায় বাসা থেকে আমার চাচাত ভাই বাবু কে নিয়ে বের হই পরদিন ভোরের ট্যাক্সির বাবস্থা করতে। কিন্তু ১৮ তারিখ উপজেলা নির্বাচন থাকায় ওইদিন বক্সিগঞ্জে কন প্রকার জানবাহন চলাচল হবে না, তাই অজ্ঞতা ১৭ তারিখ রাতেই আমরা শেরপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হই।
রাত ১২ তার একটু আগে আমরা শেরপুর পৌঁছাই। আমি আগে থেকে আমার পরিচিত বাস মালিক কে বলে আমাদের রাতে থাকার বাবস্থা করে নিয়েছিলাম। তারকাউনটার এ গেলাম। সেখানেই থাকার বাবস্থা। সে বসে আছে আমাদের অপেক্ষায়। কাউনটারটি একটি পুরান বাংলোবাড়ি। ৮০০-১১০০sft এর মাঝের আকার। বারিটাতে ঢুকতেই দেখলাম যে এক কোনায় একটি রুম, এছাড়া পুরো ঘরটাই খালি।বসার কিছু বেঞ্ছ আছে।দুই তিনটা জানালা আছে আর সবগুলই ভিতর থেকে শক্ত করে বন্ধ করা। আমি এম্নিতেই টেনে দেখলাম। কনটাই খোলার নয়। কোনার রুমটা ছোট। তাতে লাইট ফ্যান এবং একটি ডাবল খাট আছেআর একটা ছোট বাথরুম। বাস মালিক চলে যায়।আমি ঘরের দরজায় তালা লাগালাম। সবকিছুই আবার ঘুরে দেখলাম।এরপর ছোট ঘরটায় ঢুকলাম আর এই ঘরেরও দরজা লাগালাম। বাবুকে বললাম সিগারেট দিতে। আমি খাটে আধা শোয়া হয়ে সিগারেট টানছি আর বাবুর সাথে পরদিনের প্লানিংনিয়ে কথা বলছি। এমন সময় মুষলধারে বৃষ্টি নামলো। যখনদেড়টা বাজে তখন হটাৎ আমাদের রুমের দরজায় কে যেন বেশ জোরেধাক্কা দেয়া শুরু করলো। যেন সে খুব বিপদে পড়েছে আর তার সাহায্য দরকার। আমি ভয়ে অস্থির কারন মূল দরজা আমি নিজে হাতে তালা দিয়েছি র সব জানালা এমন ভাবে বন্ধ যেন তা“Industrial Strength” আঠা দিয়ে লাগানো। বাবু হটাৎ বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দরজায় গেলো। দরজার সিটকানি খোলা শুরু করলো। তখনও দরজায় ধাক্কা পড়তেসে। সে যেমনি দরজা খুল্ল, দেখি কেও নাই আর দরজার ধাক্কাও বন্ধ। ভয় পেলেও আমি উঠে ওর সাথে দরজা দিয়ে বের হলাম। দেখলাম কেও নেই। পুরো ঘর খালি। তখনো লাইট জালানো। আমরা বড় ঘরটার একটা বেঞ্চে বসলাম।আমার খুব ভয় লাগছিলো আর বাবুর ত ভয়ে অবস্থা খারাপ। আমার মাথায় হুট করে একটা ইদেয়া আসলো। আমি বা বাবু কেওই পরহেজগার বান্দা নই, আমি আমার বান্ধবি কে ফোন করলাম। ও অনেক পরহেজগার মানুষ। কিন্তু ও ফোন ধরলো না। তখন আমার পকেটে দুটো ফোন ছিল। একটা নোকিয়া এন ৮ আরেকটা অ্যাপেল আইফোন ৪। আমি এন ৮ এ আয়াতুল কুরসি ডাউনলোড হতে দিলাম আর আইফোনে “EMF READER APPLICATION” ডাউনলোড হতে দিলাম। EMF Reader তিনটি “Axis Gyro Sensor” এর দরুন ক্রিয়া করে এবং “Paranormal Electromagnetic wave” ধরতে সক্ষম হয়। জখনি কোন ভৌতিক বেপার ঘটে তখন এমন ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে সেখানের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গে তারতম্য ঘটে। আইফোনে৩ টা জাইরোই আছে তাই আমি নিশ্চিত ছিলাম অতা কাজ করবে। আমি অ্যাপ টা ইন্সটল করলাম আর ছালু করলাম। ঘরের চারপাসে দেখলাম মিটারের রিডিং নরমাল কিন্তু যেই আমাদের থাকার রুমটাতে গেলামদেখলাম যে মিটার এক লাফে অনেক উপরে উঠে গেছে। বুঝতে বাকি রইলোনা যে জিনিসটা দরজা খোলার পর রুমে ঢুকে গেছে। আমি এন ৮ এ আয়াতুল কুরসি প্লে করলাম আর দেখতে পেলাম যে মিটার টা আস্তে আস্তে নিচে নেমে যাচ্ছে। রুমে যখন মিতার রিডিং নরমাল হয় গেল তখন আমি দরজা বন্ধ করে দিলাম। এর একটু পর আমার বান্ধবি কল দিলো। বলল ওর ঘুমভেঙ্গে গেছে আর আমার মিসকল দেখে কল দিয়েছে। তখন আমি দরজার কাছে গেলাম আর দেখলাম যে মিটার টা বেশ উপরে উথে আছে। আমি এন ৮ এর লাউড স্পিকার চালু করলাম আর ওকে বললাম জ জোরে আয়াতুল কুরসি পড়তে। ও পরলো। এরপর দেখি মিতার পুরোপুরি নরমাল। আমি ওকে অল্প কথায় বুঝিয়ে ফোন রাখলাম। এরপর বিছানায় গেলাম। আমি আর বাবু কথা বলছি, বাবু প্রচণ্ড ভয় পাওয়ায় আমারও আর ঘুম হল না। রাত ৩ টার দিকে, তখন বৃষ্টি নেই। আমি আর বাবু দুজনেই স্পষ্ট শুনলাম যে সামনের বড় ঘরে কোন মহিলা কাঁদছে। বাবু বল্ল কে? আর তখনি সব চুপ। একটু পর আবার সুনলাম আর এবারমনে হল যেন কেও কথাও বলছে, তখন মিটার রিডিং দেখলাম নরমাল, কিন্তু দরজার কাছে যেতেই দেখি আবার রিডিং উপরে যায়। তখন এন ৮ এ প্লেলিস্ট বানিয়ে আয়াতুল কুরসি একটানাপ্লে করলাম। দেখি মিতার নরমাল। এরপর ফজর আজান পরজন্ত জেগে রইলাম কিন্তু কিছু হয় নি। আজানের পর একটু ঘুমালাম। ৬ টার একটু আগে ওই বাস মালিক আসলেন। আমি দরজা খুল্লাম। আমি আর বাবু ফ্রেস হয়ে বের হলাম আর উনাকে সব খুলে বললাম।উনি সুনে কেমন জানি গম্ভির হয়ে গেলেন আর বললেন তারাতারি চলে জেতে নইলে বাস মিস করবো অথচ তখনও বাস ছাড়তে ৪৫ মিনিট বাকি। আমরা তাও বাসের ওখানেই গেলাম। ১৮ তারিখ রাতে আমি একজন অবশরপ্রাপ্ত কর্নেলের বাসায় ছিলাম যিনি অনেকদিন শেরপুর আর জামালপুরে কর্মরতছিলেন। তাকে সব ঘটনা খুলে বলি এবং তিনি বিশ্বাস ও করেনআর বলেন জ ওই কাউনটারের কাছেই নাকি একটা পুরানো ও পরিতেক্ত শ্মশান আছে এবং অনেকেই নাকি এমন সব উদ্ভট ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে ওখানে।
আমি জানিনা আসলে ওখানে কি হয়েছিলো এবং আমি এটাও বলছিনা যে আমি কোন শাদা শাড়িপরা কাওকে দেখেছি বা অতা ভুত-প্রেত ছিল সেদিন, কিন্তুএটুকু বলতে পারি যে
“It was a rare experience of a life time, which will always amaze me, even till my last breath. Thoughit scared the hell out of me but still I have enjoyed every single second of it and I loved it. It is as they say….
Life is not about the quantity\amount of breaths you take, its is about the very few moments that take your breath away”.

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন