পৃষ্ঠাসমূহ

।। রহস্যময় আত্মহত্যা ।।

| বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০১৪ | |
১১ই জুলাই ২০০৭ সালের একটি ঘটনা।বিকেল তিনটা দ্রুতবেগে ছুটে চলেছ জগন্নাথগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ গামী একটি ট্রেন।আর ট্রেনের চালকের আসনে বসে আছে অভিজ্ঞ ড্রাইভার আবদুল মতিন।ট্রেন যখন শহরের কাশর এলাকায় আসে তখন তিনি দেখলেন একটু দূরে কিছু মানুষ রেল লাইনের উপর দাড়িয়ে আছে।ড্রাইভার মতিন তখন জোরে জোরে ট্রেনের ভেপু বাজালেন।কিন্তু তারা রেল লাইনের উপর থেকে সরলেন না।ট্রেন থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেন তখন আবদুল মতিন।কিন্তু ট্রেনটি যখন থেমেছে ততক্ষনে ট্রেনের চাকায় থেঁতলে গেছে নয়জন মানুষ।।আর ড্রাইভার মতিন ঘাড়ি থেকে নেমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলনেন।এই ঘটনার পরে হতভম্ব হয়ে যায় এলাকার মানুষ।কারন নিহত সবাই একি পরিবারের সদস্য।অস্বাভাবিক এই ঘটনার নেপথ্যে ওই পরিবারের রহস্য ঘেরা জীবনকে ইঙ্গিত করেছে এলাকা বাসী।পরে জানা যায় নিহতরা সবাই কাশর এলাকার মরহুম আদম ফকিরের পরিবারের সদস্য।আদম ফকির খুব ধার্মিক লোক ছিলো।সব সময় মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন।কিন্তু হঠাত্‍ করে কেন জানি তিনি ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলেন।আদম ফকির মারা গেলে এলাকার মানুষ তাকে দাফন করতে চায়।কিন্তু তার পরিবার এতে বাঁধা দেয়।যার ফলে এলাকার মানুষের সাথে তাদের জটিলতা সৃষ্টি হয়।তার পর থেকে আদম ফকিরের পরিবারের লোকজন তেমন একটা বাড়ি থেকে বের হতেন না।আত্মহত্যার পরে অনুসন্ধান করতে পুলিশ ঐ বাড়িতে ঢুকে।

বাড়িতে গিয়ে দেখে বাড়িটি বেশ সাজানো গোছানো।বাড়ির পাশে কয়েকটা কবর খুঁড়া।আর ঘরের ভেতর পাওয়া যায় ৪ টি ডায়েরি ও একটি চিরকোট।ডায়েরি গুলোতে পরিবারের সবার নাম ক্রমিকভাবে লেখা আছে।ডায়েরি গুলো ইংরেজি আর বাংলা লেখা।একটি ডায়রিতে লেখা ছিলো"আমরা হলমা পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীন পরিবার।আমরা মোহাম্মদ সহ সব ধর্মের আইনের বাহিরে"।অন্য একটি ডায়েরিত পরিবারে কর্তা জয় আনোয়ার আদম লেখিছেন "আমার পিতা আদম ফকির প্রতি রাতে আমাদের সাথে দেখা করতে আসে।তিনি আমাদের আদম ধর্ম পালন করতে বলে যান"।

আর চিরকোটে লেখা "পৃথিবীতে ধর্ম বলতে কিছু নাই।আদম হলো সত্য ধর্ম।আর আমরা সবাই আদম।"এই ঘটনার কয়েক বছর কেটে গেলে ও আজো এর রহস্য উদ্ধার হয়নি।মনো বিজ্ঞানীদের ধারন ঐ পরিবারের সবাই আউটনী হ্যালুসিনেন আক্রান্ত হতে পারে।এটা এমন একটা রোগ যা একজনের চিন্তা এক সাথে থাকা একাদিক ব্যক্তির মাঝে প্রবাহিত হয়।তাদের চিন্ত চিতনা এক হয়ে যায়।তারা গায়েবী আওয়াজ শুনতে পায়।তাদের কাছে মনে হয় কেউ যেন তাদের নির্দেশ করছে আত্মহত্যা করার জন্য।এত বড় গন আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের দেশে প্রথম হলে ও বিশ্বে এই রকম ঘটনা আরো ঘটেছে।১৯৭৮ সালে ১৮ নভেম্বর জিম জোসন নামের এক ধর্ম প্রচারক তার ৯০৯ জন ভক্ত নিয়ে আত্মহত্যা করে।এটাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আত্মহত্যা।আত্মহত্যার পূর্ব তারা সবাই একটি বাড়িতে মিলিতো হয়।সেখানে তারা যে যার মত করে ভাল ভাবে খাওয়ার দাওয়ার করে নিলেন।তার পরে চাদের উপর উঠে সবাই এক সাথে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে।আর আত্মহত্যার আগে তারা কিছু চিরকোট লিখে যায়।সেগুলোতে লেখা ছিলো "এই পৃথিবী নস্ট আর খারাপের দখলে চলে গেছ।তাই আমরা এমন এক গ্রহে চলে যাচ্ছি যেখানে শুধু থাকবে সুখ আর শান্তি।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন